দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। শনিবার রাতে কেশম দ্বীপের কাছে ওই হামলায় একজন নিহত ও আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা কেশমের গভর্নরের বরাত দিয়ে হামলার জন্য একটি সন্ত্রাসী শত্রুপক্ষকে দায়ী করেছে। তবে হামলার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছেও এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
কেশম দ্বীপ ইরানের বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস থেকে প্রায় ১৪ মাইল দূরে। হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপ। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো। বর্তমানে সংঘাতের কারণে এ পথে নৌ চলাচল যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
এদিকে শনিবার রাতে হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি জাহাজ অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা। সংস্থাটি জানায়, জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নাবিকদের সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে। তবে জাহাজটি কোন দেশের পতাকাবাহী, তা জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকদের বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা বৈঠকে অংশ নেবে না। অন্য কোন কোন দেশ এতে যোগ দেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালির অপর পাড়ের দেশ ওমানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে নৌ চলাচল নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছে ইরান। তবে এ বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা কমিয়ে দেখিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ বন্ধ করলেই প্রণালিটি খুলে দেওয়ার শর্ত তৈরি হবে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত মেনে না নিলে সংলাপ বা আলোচনার কোনো অর্থ নেই।
একজন ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওমানের বৈঠকের লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং নিরাপদ নৌপথ তৈরির ভিত্তি প্রস্তুত করা। তবে এর অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নয়। যুক্তরাষ্ট্র তাদের দায়িত্ব পালন করে নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বন্ধ না করা পর্যন্ত প্রণালি নিরাপদ হবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা রোববার সৌদি আরবের শারুরাহ অঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে। হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে হামলাটি কখন চালানো হয়েছে, তা তিনি জানাননি।
সম্প্রতি সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করেছে হুথিরা। একই সঙ্গে তারা এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সঙ্গে যুক্ত লোহিত সাগর উপকূলের দিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে।
শনিবার হুথিরা দাবি করেছিল, সৌদি বাহিনী হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত পেরিম দ্বীপ দখল করে হুথিরা। দ্বীপটি বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপরও ইরানের মিত্রদের প্রভাব তৈরি হয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে একটি সূত্র জানিয়েছিল, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুই দফা কথা বলে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেননি।
ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সামরিক গোষ্ঠী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্যাকশনস রোববার জানিয়েছে, পশ্চিম উপকূলে হুথিদের তিন সপ্তাহের অভিযানে তাদের ৫০০-এর বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
এদিকে ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। বাগদাদ ও রিয়াদ জানিয়েছে, ওই হামলা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা থাকা ইরাক থেকে চালানো হয়েছিল।
পাইপলাইন বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে সৌদি উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/